রাজশাহী জেলা পরিচিতি
অবস্থান ও আয়তন:
উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা, রাজশাহী বিভাগের প্রশাসনিক কেন্দ্র।
আয়তন: ২৪২৫.৩৭ বর্গকিমি।
সীমানা: উত্তরে নওগাঁ, দক্ষিণে কুষ্টিয়া ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে নাটোর, পশ্চিমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
প্রধান নদী: পদ্মা, মহানন্দা, শিব।
ইতিহাস ও নামকরণ:
রাজশাহী জেলার সদরদপ্তর শুরুতে নাটোর শহরে ছিল, পরে পদ্মার তীরবর্তী রামপুর-বোয়ালিয়া এলাকায় স্থানান্তরিত।
নামকরণ: সংস্কৃত ‘রাজ’ + ফারসি ‘শাহী’, অর্থ রাজকীয় বা বাদশাহী।
১৯৮৪ সালে বৃহত্তর রাজশাহীর ৪টি জেলা গঠিত হয় (রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর, নবাবগঞ্জ)।
অর্থনীতি:
প্রধান আয়ের উৎস: কৃষি ৫৯.৩৫%, ব্যবসা ১৪.২৫%, চাকরি ৮.৯৭%, পরিবহন ও যোগাযোগ ৪.৩৬%, শিল্প ও অন্যান্য ১০.০৭%।
রাজশাহীকে বলা হয় “সবজিভান্ডার”, ফল ও ফসল উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।
সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য:
লোকসংস্কৃতি: গম্ভীরা, কবিগান, মেয়েলী গীত, ছড়া, পুতুল নাচ, লোকনাট্য, উপকথা, ধাঁধাঁ।
পত্রিকা ও সাময়িকী: দৈনিক, সাপ্তাহিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক সংস্কৃতিমূলক প্রকাশনা।
গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার, রাজশাহী কলেজের মূল ভবন, সারদা ক্যাডেট কলেজ, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, কৃষি ও ফল গবেষণা কেন্দ্র।
উপসংহার:
রাজশাহী জেলা বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক, শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ফল ও শাক-সবজি উৎপাদন, রেশমচাষ, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ পরিচিত।